নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ায় বিক্ষোভ, নাভালনি আটক
নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ায় বিক্ষোভ, নাভালনি আটক

নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ায় বিক্ষোভ, নাভালনি আটক

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ডাকে রাশিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে। রোববার দেশটিতে এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়ার পর নাভালনি বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নাভালনিকে আটক করার আগে পুলিশ মস্কোতে তাঁর কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। ওই সময় কার্যালয়ের অনেক উপকরণ জব্দ করেছে পুলিশ। আগামী ১৮ মার্চ রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না আলেক্সেই নাভালনি। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৪১ বছর বয়সী নেতা নাভালনির টুইটার পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, আটক হওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে নাভালনির বেশ ধস্তাধস্তি হয়। পরে টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে আটক করা হয়েছে। যদি অনেকে থাকে, তবে এক ব্যক্তির আটক হওয়া অর্থহীন। কেউ একজন এগিয়ে আসুন এবং আমার জায়গা নিন।’ এ সময় তিনি দলে দলে মানুষকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে রোববার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। দেশজুড়ে ১৮০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার পুলিশ নাভালনির দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। নাভালনির একজন মুখপাত্র বলেছেন, পুলিশ দরজা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকে। ওই সময় বলা হয়, বোমা বিস্ফোরণের হুমকি তদন্ত করতে ঢোকা হচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই নাভালনির সমর্থকেরা রাশিয়াজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নাভালনির দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে পুতিনকে হারাতে পারবেন তিনি। সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতেই দুর্নীতির অভিযোগ এনে নাভালনিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নাভালনিকে আটকের আগে তাঁর বাসভবনের চারপাশ ঘিরে ফেলেছিল শত শত পুলিশ। সমালোচকেরা বলছেন, নাভালনিই হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নির্বাচনে পুতিনের সঙ্গে টক্কর দিতে পারেন। ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, অনুমতি না নিয়ে মিছিল করলে পরিণাম ভালো হবে না। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের শাস্তি দেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।

২০১১-১২ সালে পুতিনের বিরুদ্ধে সংঘটিত ব্যাপক বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আলেক্সেই নাভালনি। গত বছরই তিন দফা গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। প্রত্যেকবারই তাঁর বিরুদ্ধে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল।