তৃতীয় বিভাগ ফুটবলের ডাগআউটে মন্ত্রী!

তৃতীয় বিভাগ ফুটবলের ডাগআউটে মন্ত্রী!

মন্ত্রী হলেও তাঁকে প্রায়ই ফুটবল দলের ডাগআউটে দেখা যায়। ফুটবলার ছিলেন বলে হয়তো মাঠের টানটা ছাড়তে পারেননি আরিফ খান জয়। এর আগে সবাইকে অবাক করে তৃণমূলে ড. ওয়াজেদ মিয়া ফুটবল দলের ডাগআউটেও দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ব্যাপারটা ওখানেই শেষ নয়। আরিফ খান জয়ের ডাগআউটে দাঁড়ানো নিয়ে কাল নানা অভিযোগ তুলেছে আরামবাগ একাডেমি ফুটবল দল।

তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে কমলাপুর স্টেডিয়ামে খেলা চলছিল আরামবাগ একাডেমি ও দীপালি যুব সংঘের। খেলা মিনিট তিরিশেক গড়ানোর পর দীপালি ডাগআউটে গিয়ে দাঁড়ান ক্লাবটির সভাপতি যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আরামবাগ একাডেমির। ক্লাবটির সভাপতি মোমিনুল হক সাঈদ প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘তিনি (আরিফ খান জয়) ওখানে যেতেই পারেন না। কারণ, অনুমতি নেই। তা ছাড়া মন্ত্রী রেফারিকে গালাগাল করেন আমাদের কার্ড দিতে। এর চেয়ে লজ্জার, ন্যক্কারজনক কী হতে পারে! একজন মন্ত্রী যদি মাঠে গিয়ে কোচিং করান, মাঠের এপাশ থেকে ওপাশে হাঁটা শুরু করেন, কীভাবে চলবে। ফুটবল তো এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।’

 এ নিয়ে গত রাতেই ঢাকা মহানগরী লিগ কমিটির অফিসে লিখিত অভিযোগ নিয়ে যায় মতিঝিল ক্লাবপাড়ার দলটি। তবে অফিসে নাকি কেউ ছিল না। লিগ কমিটির সভাপতি হারুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আমি মনে করি, একজন মন্ত্রী সবার জন্যই সমান।’

জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর ছোট ভাই দীপালি যুব সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার অমিত খান বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথা, ‘অভিযোগ যে কেউ করতেই পারেন। রাজনৈতিক কিছু ব্যাপার থাকে এর মধ্যে। দীপালি ক্লাবের পাশে যখন কেউ ছিল না, খেলোয়াড়-কোচ এনে ক্লাবটাকে এগিয়ে নিয়েছেন জয় ভাই। তাঁর মাঠে গিয়ে খেলা দেখা তো প্রশংসা করার মতো ব্যাপার।’

কিন্তু তিনি রেফারিকে প্রভাবিত করেছেন। তা ছাড়া ডাগআউটে কীভাবে থাকেন—আরামবাগের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে অমিত বলেন, ‘তিনি মাঠে এলে তাঁকে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব দিই। সুতরাং তিনি থাকতেই পারেন। একজন মন্ত্রী যেসব কাজ ফেলে মাঠে আসেন, এটাকেই ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত।’