সাংসদেরা লবিতে, মন্ত্রীরা কক্ষে থাকেন

সাংসদেরা লবিতে, মন্ত্রীরা কক্ষে থাকেন

সংসদের কোরাম-সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেছেন, সংসদে সব সময় কোরাম থাকে। সাংসদেরা সংসদের লবিতে থাকেন। মন্ত্রীরা সংসদে তাঁদের কক্ষে থাকেন। তার অর্থ এই নই যে তাঁরা সংসদে থাকেন না।
আজ মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চতুর্থ সংসদের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ এ কথা বলেন।

সংসদের কোরাম-সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘অনেকে পত্রিকায় লেখেন সংসদে কোরাম হয় না। সংসদে উপস্থিত থাকে না। আমি এ কথা বলতে চাই, সংসদের কোরাম সব সময় থাকে। লবি ইজ দ্য পার্ট অব দ্য হাউস। মাননীয় মন্ত্রীরা অনেক সময় এই সংসদের ভেতর তাঁদের অফিসে কাজ করেন। যদি এমনটাই হয় যে সংসদে হয়তো এমপি সাহেবরা কম, তাঁরা লবিতে থাকেন। তাঁরা মন্ত্রীর রুমে গিয়ে তাঁদের এলাকার কাজ করেন। মন্ত্রী সাহেবরা তাঁদের রুমে বসে থাকেন। তার অর্থ এই নয় যে এই সংসদে তাঁরা থাকেন না।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আগামী দিনে বেশি বেশি উপস্থিত থেকে তাঁরা সংসদকে কার্যকর করবেন।’

অবশ্য সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোরাম হতে হলে অধিবেশনে কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি থাকতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সংসদ খুব সফল সংসদ। গালিগালাজ, অসাংবিধানিক বক্তব্য দেওয়ার সংসদ নয়। বিএনপিসহ কয়েকটি দল অংশ না নেওয়ায় অনেকে সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁরাই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন, যাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় ড. কামালের নির্বাচন করতে হয়নি। পরে যখন দু-একটি নির্বাচন করেছেন, তাতে জয়ী হতে পারেননি। তিনি যখন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন অবাক হতে হয়।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে অনুশোচনা করে
ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিএ) বাংলাদেশের দুজন সাংসদ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বর্তমান সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খুব অনুশোচনা করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের চেয়ে কার্যকর সংসদ আর নেই। সংসদে গালিগালাজ, অসংসদীয় আচরণ নেই। দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে ও গণতন্ত্রের কল্যাণে এই সংসদ কাজ করছে। এই সংসদের দিকে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আগামী সংসদও যেন এমন সুন্দর পরিবেশে গঠিত হয়, তিনি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিরোধী দলের সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও অতীতের সব সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদকে কার্যকর বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, অতীতে যারাই বিরোধী দলে ছিল, নানা অজুহাতে সংসদ বর্জন করেছে। সরকারের অনেক সমালোচনা এই সংসদে হলেও কোনো শব্দ এক্সপাঞ্জ করতে হয়নি। এই সংসদের সময়ে যত উন্নয়ন হয়েছে, অতীতে তা কখনোই হয়নি।

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে শিখতে হবে সংসদ কীভাবে চলে।’

বিরোধী দলের আরেক জ্যেষ্ঠ সাংসদ জিয়াউদ্দীন আহম্মেদ বাবলু বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতো। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ হয়েছে, এটাই ১৯৯১ সালের পর একমাত্র কার্যকর সংসদ। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল যেখানে সরকারের সীমাবদ্ধতা দেখেছে, কঠোর সমালোচনা করেছে। কিন্তু সংসদকে অকেজো করেনি।

সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সুর মেলান সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি দাবি করেন, তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে নবম ও দশম সংসদের চেয়ে অর্থবহ সংসদ এর আগে দেখেনি। বিশেষ করে দশম সংসদের যে কার্যকলাপ, যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিরল ইতিহাস।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বব্যাপী সংসদ নিয়ে যে প্রশংসা হয়েছে, এর আগে কোনো দিন তা হয়নি।

‘নো খালেদা, নো ইলেকশন’—ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না
সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পস্তাচ্ছে। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পথ নেই। ‘নো খালেদা জিয়া, নো ইলেকশন’ এই ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। তারা না এলে নির্বাচন হবে না—এটা কোনো কথা হতে পারে না। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মী নির্বাচনে যেতে চান।

এর আগে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া তাঁকে থামিয়ে দেন এবং বিচারাধীন বিষয়ে কথা না বলার আহ্বান জানান।

অন্যদের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম, বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ সংসদের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বক্তব্য দেন।