অস্ট্রেলিয়া এখন তাঁর ‘মায়াঘর’

অস্ট্রেলিয়া এখন তাঁর ‘মায়াঘর’

একদিকে নিজের অভিনয় দিয়ে যেমন জনপ্রিয় অন্যদিকে নিজের প্রযোজনা ও পরিচালনায় উপহার দিচ্ছেন অসংখ্য খণ্ড নাটক, টেলিছবি ও ধারাবাহিক নাটক। বড় পর্দার জন্য বড় কিছু তৈরি করেছেন কয়েক বছর আগে। ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবি প্রযোজনা ও অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক মাহফুজ আহমেদ। সম্প্রতি প্রাণচঞ্চল এই তারকার সঙ্গে কথা হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। অভিনয়, ‘জিরো ডিগ্রি’র অর্জন, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের খানিকটা ভাবনা নিয়ে বললেন তিনি। সেই কথন থাকছে এখানে।

আমি মাহফুজ আহমেদ
অচেনা এক মাহফুজ আহমেদ থেকে মানুষের উষ্ণ ভালোবাসা পেয়ে অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ হয়েছি। তাই এই পরিচয়ে বেশি ভালো থাকি। তবে হ্যাঁ, পরিচালকের ভূমিকাও বেশ উপভোগ করি। কোনো গল্পকে নিজের মতো করে সাজিয়ে কিছু একটা সৃষ্টি করার আনন্দই অন্যরকম।

‘জিরো ডিগ্রি’
‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিকে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে মনে হয়। এ সিনেমার শুরুর দিককার কথা ভাবলে খুব আন্দোলিত হই। অনিমেষ আইচের চমৎকার নির্মাণশৈলী এখনো আমাকে মুগ্ধ করে। এ ছাড়া যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা প্রত্যেকেই অসাধারণ। তবে ছবিটির কাজ চলার সময় এবং মুক্তি পাওয়ার আগেও ভাবিনি এত দূর এগোতে পারব। ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি আর জয়া আহসান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক আর শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহকের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘জিরো ডিগ্রি’। এর আগে সিডনিতে ছবিটি মুক্তি পায়। এখানেও ভালোবাসা পেয়েছে ‘জিরো ডিগ্রি’।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া-আসা
প্রথম প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর বিরক্ত হতাম। এখন অবাক লাগে, সেই আমি এই অস্ট্রেলিয়ার কী অদ্ভুত মায়ায় পড়ে গেছি! বিয়ের পর আমার স্ত্রী মিমি অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসে। এখন আমার মেয়ে আরাধ্য আর ছেলে অরিত্র তার মায়ের সঙ্গে সিডনিতে স্থায়ীভাবে আছে। পরিবার যখন একটা দেশের আলো বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়, তখন সে বাতাস কেন জানি নিজের হয়ে যায়, জায়গাটার জন্য মায়া মায়া লাগে। তাই অস্ট্রেলিয়াকে একটা দেশ না বলে ‘মায়াঘর’ বলি। এ দেশের চাকচিক্য আমাকে মুগ্ধ করেনি কখনো। প্রথম সিডনির বিখ্যাত ‘অপেরা হাউজ’ দেখে আমি দুটি শব্দ বলেছিলাম, ‘খারাপ না’। আর এখন মায়াজালে বন্দী। আমার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী আমাকে খুব বলে এখানে থেকে যেতে। কিন্তু দেশের মায়া ছাড়তে পারি না। তাই আসা-যাওয়ার মধ্যে আছি।

শরণার্থীদের নিয়ে ভাবনা
অস্ট্রেলিয়ায় আর এর আশপাশে কয়েকটি দ্বীপে প্রচুর শরণার্থী আছেন। তাদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছি। সময় হলে এই শরণার্থীদের জীবন নিয়ে একটা ধারাবাহিক নাটক বানাব।

আবার চলচ্চিত্র
চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক কিছু শেখার ইচ্ছে থেকে ‘জিরো ডিগ্রি’ নিয়ে কাজ করা। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি আবারও চলচ্চিত্র তৈরি করব। ভালো গল্পের জন্য অপেক্ষা করছি। অনবদ্য সৃষ্টি না হোক, অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন মনে রাখে এমন কিছু কাজ রেখে যেতে চাই।

বাঙালিদের নিয়ে মুগ্ধতা
অস্ট্রলিয়ার বাঙালিদের বিচরণ গর্ব করার মতো। এ দেশের বড় বড় হাসপাতালে বাংলাদেশি ডাক্তার আছেন, নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমার দেশের শিক্ষক আছেন, এসব আমাকে খুব গর্বিত করে, মুগ্ধ করে। আবার এখানে বাঙালিদের কাছে আমি সেই একই ভালোবাসা পাই, যেমনটা পাই দেশে।

ভোজনরসিক
অস্ট্রেলিয়ানরা ভোজনরসিকও বটে। এখানে এত স্বাদের খাবার পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও দেখি না। আমার মনে হয় বিশ্বের সেরা খাবার পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ায়। এসব খাবার যেমন তাজা, তেমনি খুব স্বাদের।

রঙিন সংস্কৃতি
অস্ট্রেলিয়ানরা রঙিন সংস্কৃতি খুব পছন্দ করে, যেটা বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে আছে। আবার এ দেশ অপেরার দেশ। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের খুব কদর পাওয়া যাবে এখানে। অস্ট্রেলিয়ানরা মঞ্চ নাটক ভালোবাসে। তাই আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার করে বিশাল আয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের উপস্থাপন করা যেতে পারে।

বাণিজ্যের সুযোগ
অস্ট্রেলিয়ায় পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আর বাংলাদেশে রয়েছে পাটের ভান্ডার। তাই শুধু পাট যদি অস্ট্রেলিয়ার বাজার ধরতে পারে, তাহলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা পাবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় নার্স পেশা খুবই সম্মানজনক, আর এই পেশার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ইংরেজি শিখে এ কাজের সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে তার জন্য দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।